vairal Link🔥🔥🔥🔥⬇️

 Dawnlod ⬇️⬇️⬇️  

     

🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥



বিডিও দেখতে DAWNLOD বাটমে ক্লিক করুন  ⬇️
২ টা বাটমে ক্লিক করুন ⬇️





তিন চার দিন নিম্নচাপ আর মুষলধারায় বৃষ্টির পর আজ শেষ বিকালে সূর্যের দেখা মিলেছে। মেঘ বেডে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। ফোনে অনবরত কল এসে কেটে যাচ্ছে। মেঘ ফোন হাতে নিয়ে দেখে সাতান্ন টি মিসকল আর একশত প্লাস মেসেজ সব গুলো রুদ্রের থেকে এসেছে। ফোনে এরোপ্লেন মোড অন করে বেডের এক পাশে ফোন টা ফেলে রাখলো। 

মেঘের সাথে রুদ্রের প্রথম দেখা হয় একটা পার্টিতে তখন ও মাত্র ক্লাস নাইনে পড়ত। এরপর টানা দু'বছর ওর পিছনে বদ্ধ উন্মাদের মতো পড়ে থেকে অবশেষে মেঘ কে একপ্রকার বাধ্য করে রিলেশনে জড়াতে। রুদ্রের প্রতি মেঘের প্রথম দিকে শুধু সহানুভূতি আর ভালোলাগা থাকলেও সময়ের পালাবদলে তা গভীর প্রণয়ে রূপ নেয়। রিলেশনের প্রথম এক বছর টা সব ঠিক থাকলেও একবছর দু'মাস পর মেঘ বড় একটা ধাক্কা খায়। রুদ্র হিন্দু! 

রিলেশনে যাওয়ার আগে অনেক বার বন্ধুদের সাথে ইফতার পার্টির গ্রুপ ফটো। ঈদে হ্যাংআউট এছাড়াও বিভিন্ন নাম্বার ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে শুক্রবার, রমাদান ঈদে শুভেচ্ছা বার্তা ও গিফট পাঠানো এগুলো রুদ্রের এক প্রকার রুটিন ছিল। আর মেঘের এক মুসলিম স্কুল ফ্রেন্ডের নাম ও রুদ্র ছিল। প্রথম দিকে এটা অস্বাভাবিক মনে হলেও পরে বিষয়টি অতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। মেঘ এসব জানার পর ব্রেক আপ করতে চায়। রুদ্র যে নিজের ধর্মের বিষয় টা ইচ্ছাকৃত লুকিয়ে ছিল তা সন্দেহাতীত। কিন্তু রুদ্র ব্রেক আপ করতে নারাজ। সে নাকি মেঘ কে হারানোর ভয়ে এত দিন লুকিয়ে ছিল এটা। ক্রমাগত রুদ্রের ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল আর মেঘের অল্প বয়সের আবেগের কারণে এই অনিশ্চিত সম্পর্কের শেষ সুতা না ছিড়ে আরো বেশি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেল দু'জনে। কিন্তু গত তিন মাস যাবত রুদ্রের কাজে প্রচন্ড বিরক্ত মেঘ। 

_" কিরে খুকুমণি, দু'কানে তুলা পুরে কার চিন্তায় ডুবে আছিস যে এত ডাকার পরও তোর হুস নাই?" মেঘের মাথায় একটা থাপ্পর দিয়ে বলল মেহরাজ।

_"তোমায় আমি একশো বার বারন করেছি মাথায় মারতে তবুও খবিশ মতো একি কাজ কর। আমার বাপ দাদা আস্ত গরু আকিকা দিয়ে দুই দুই টা নাম রেখেছেন আমার তোমার সোনায় বাঁধানো মুখ দিয়ে ওই নাম দুইটার মধ্যে যেকোন একটা নাম ধরে আমাকে ডাকলে আমি ধন্য হবো।" নিজের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল মেঘ।

_"হ, যেই না চেহারা নাম রাখছে পেয়ারা।"
_"ছোট মা.."
_"চুপ কর বোন, চিল্লাচিল্লি করিস না। আচ্ছা সরি যা তোকে পচানোর জন্য। একটা হেল্প কর প্লিজ, তুই ফোন দিয়ে নূর আর রোজা কে মাশফিয়ার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ইনভাইট কর।"
_"পারবো না আমি।"
_"প্লিজ আমার লক্ষী বোন।"
_"এত তেল না দিয়ে ফটাফট কানে ধরে দশ বার সরি বলো তারপর ভেবে দেখবো।"
_মেহরাজ কটমট করে মেঘের দিকে তাকালেও মেঘ পায়ের উপর পা তুলে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বসে আছে।
_"ওকে" মেহরাজ সত্যি সত্যি কানে ধরে সরি বলল দশ বার।
_শর্ত অনুযায়ী মেঘ অনেক বলে কয়ে রিকুয়েস্ট করে ওদের দু'জনকে রাজি করালো মাশফিয়ার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসার জন্য।

_"আর একটা গুড নিউজ আছে, মেহরাদ ভাই আসছে বিশ দিনের ছুটিতে। দাদি আর মা অনেক কান্নাকাটি করে রাজি করিয়েছেন।"

_"সত্যি! তুমি ঠিক বলছো ভাইয়া? কখন আসবে? কবে আসবে? চুপ করে আছো কেন? কিছু বলো প্লিজ।" খুশিতে মেঘের চোখে পানি চলে এসেছে।

_"তিন তারিখে। মাশফিয়ার জন্মদিনের আগের দিন।" বোনের দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বলল মেহরাদ।
_____

নাফিসা ইসলাম নূর এবং রুজাইনা আফরিন রোজা দু'জনেই ঢাকা ইউনিভার্সিটির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও একে ওপরের বেস্ট ফ্রেন্ড। 
রুজাইনা অনাথ। মা-বাবা, ছোট ভাই সবাই আল্লাহ তায়ালার মেহমান হয়েছে তিন বছর আগে। এত বড় পৃথিবীতে আপনজন বলতে দু'জন আছে ওর প্রথম জন নূর। আর দুই নম্বর হচ্ছে চৌদ্দ ঘন্টার পরিচয়ে তথাকথিত আপনজনের খাতায় নাম উঠিয়ে পালিয়ে যাওয়া এক আগুন্তক!

অন্য দিকে নূরের বাবা থেকেও নেই। মায়ের সাথে ডিভোর্সের পর আর কোন দিন মেয়ের খোঁজ খবর নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। নূরের মা কে পরে আবার বিয়ে দেয় ওর মামারা। নূরের নানা নানী বেঁচে থাকতে তেমন সমস্যা না হলেও ওনারা মা*রা যাওয়ার পর নূরের জীবনে নরক যন্ত্রণা নেমে আসে। নানি মা*রা যায় এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর, তার পাঁচ মাস পর নূরের নানা ও ইহজগৎ এর মায়া ত্যাগ করে অনন্ত জীবনের পথে পাড়ি জমান। আর নূর মামীদের অবহেলা অনাদরে রয়ে যায় একা একা। নূরের মায়ের দ্বিতীয় স্বামী আর এক জালেম। মাদকাসক্ত,জুয়াড়ি। মামা মামীদের হাতে পায়ে ধরে ইন্টার পরীক্ষা টা দিয়েছে যদিও ওর পড়াশোনার জন্য তারা এক পয়সাও খরচ করেনি। এইচএসসি পরীক্ষার শেষে গ্রামের মেম্বারের বখাটে ছেলের সাথে সাথে বিয়ে ঠিক করে ওনারা নূর আর ওর মায়ের মতামতের বিরুদ্ধে যেয়ে। বিয়ের রাতে পালিয়ে কলেজের তিন জন শিক্ষকের সহায়তায় এডমিশন কোচিং করে আর আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে চান্স পায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন নূরের ধ্যান জ্ঞান একটাই নিজের ঝুলিতে ভালো সিজিপিএ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ইউনিভার্সিটির পাঠ চুকানো এবং একটি মানসম্মত চাকরি পেয়ে মাকে ওই নরক থেকে মুক্ত করে একটা সুন্দর জীবন উপহার দেওয়া।
____

বিশ পঁচিশ জন শ্রমিকের গত দু'দিনের পরিশ্রমে রঙ বেরঙের কাঁচা ফুল আর বিভিন্ন রকমের ফেইরি লাইটের সমন্বয়ে 'স্বপ্ননীড়' কে যেন আজ চোখ ধাঁধানো সুন্দর লাগছে। এবাড়িতে কারোর জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালন করা হয়নি আজ পর্যন্ত। মাশফিয়া তিন মাস মেজবাহুল শিকদার কে বলে বলেও যখন রাজি করাতে পারলো না তখন দু'দিন নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে শেষ পর্যন্ত রাজি করিয়েছে ,তবে ওকে স্পষ্ট বলে দিয়েছে এটাই প্রথম আর এটাই শেষ। জন্মদিনের পরের দিন এসব আয়োজন করা হয়েছে।

নূর চোখ মুখ কুঁচকে গাড়িতে বসে আছে,ওর বিন্দু পরিমাণ যাওয়ার ইচ্ছা নেই।
_"তোকে আজ অন্যরকম লাগছে রোজ"
_রোজা নিজের মাথায় হাত বুলালো আর দু'হাতের দিকে তাকিয়ে বলল " শিং বা ডানা কোন টাই তো গজায়নি, তাহলে অন্য রকম কি লাগছে তোর চোখে?"
_"কেমন যেন লাগছে। কখনো মনে হচ্ছে তুই এমন কিছু পাওয়ার খুশিতে আত্মহারা যার জন্য তুই দীর্ঘদিন অপেক্ষারত ছিলি। আবার কখনো মনে হচ্ছে তুই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার ভয় পাচ্ছিস যা আগে থেকেই তোকে গ্রাস করে ফেলেছে।

_"সারাদিন ক্লাস,ল্যাব, প্রেজেন্টেশন আর খাবারের বদলে স্যারদের ঝাড়ি তোর মাথা টা গেছে এজন্য ভুলভাল বকছিস। এখন বকবক বন্ধ করে আমার ঘাড়ে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা কর প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লাগবে যেতে, রাতে মাত্র এক ঘন্টা ঘুমিয়েছিস"

_নূর আর কথা বাড়ালো না। সত্যি খুব ক্লান্ত লাগছে। রোজার কাঁধে মাথা রেখে দু'চোখ বন্ধ করল।

_"তুই সত্যিকার অর্থে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। কিছু না বলেও কত কিছু ধারণা করে ফেলেছিস শুধুমাত্র আমার মুখ দেখেই!" নূরের মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে কথাগুলো বললো রোজা।

চলবে...

আজকের পর্ব ছোট হয়েছে কিছুটা। কাল আর এক পর্ব দেওয়ার চেষ্টা করবো। কিন্তু শিওর বলতে পারছি না।

গল্পটা কেমন লাগছে আপনাদের মতামত জানাবেন পাঠকগণ। আপনাদের দৃষ্টিতে ভুল ত্রুটি ধরা পড়লে বলবেন আমি সংশোধন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।




Post a Comment

0 Comments

Comments