Vairal link 🔥🖇️

 Dawnlod 👇👇👇


🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥


বিডিও দেখতে Dawnlod বাটমে কিল্ক করুন ⬆️⬆️




বিডিও দেখতে Dawnlod বাটমে কিল্ক করুন ⬆️⬆️

মনে মনে ভাবলাম এখন আর কোন মেসেজ করবো না কারণ মেসেজ না করলে সে কিছুক্ষন আমার কথা ভাববে । আমি চাই তার মস্তিষ্কের মধ্যে ভাবনা শুরু করতে তাই আপাতত মেসেজ লক ডাউন । মোবাইল সাইলেন্ট করে চিরপরিচিত কোলবালিশ জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছি । ভাবছি ঘুম থেকে উঠে স্যারের বাসার সামনে গিয়ে একটা চক্কর দিয়ে আসব পরিবেশ টা কেমন আছে সেটা দেখার জন্য ।

দরজা খুলে মেসের রান্না করা খালা প্রবেশ করলো , শা*লার শফিককে বললাম দরজা বন্ধ করতে কিন্তু না করে সে পাশের রুমে তা*স খেলতে গেছে ।

- খালা এসে বললো , " মামা সন্ধ্যা বেলা আমাদের ওখানে একটু যাবেন , আমার বড় মেয়ে ওর নানা বাড়ি থেকে বেড়াতে এসেছে সাথে আমার ভাইয়ের মেয়ে এসেছে দুটো । বিকেলে আমরা নানাধরণের পিঠা বানাবো , মেসের সবাইকে তো নেওয়া সম্ভব না তাই আপনি শফিক আর রকি যাবেন । আপনারা তিনজন খুব ভালো মনের মানুষ তাই আপনাদের কথা আমি মাঝে মাঝে বস্তিতে সবার সাথে বলি ।

- বললাম , " তোমার ভাব তো সুবিধার মনে হচ্ছে না মেয়ের জামাই বানাবে নাকি খালা ? লাভ নেই , আমি তোমার বউমা পেয়ে গেছি । "

- ধুর মামা কি যে কন আপনি ? এর আগে তো কত আপনারা আমাদের বাসায় গেছেন ।

- মজা করছি , আচ্ছা ঠিক আছে সন্ধ্যার পরে গিয়ে একটা চক্কর দিয়ে আসব ।

- তাহলে আমি গেলাম ?

- আচ্ছা যান তাহলে , আর শোনেন !

- জ্বি মামা ।

- বাসায় তো মেহমান এসেছে , খরচের টাকা পয়সা আছে তো ?

- আসলে মামা টাকা তো নেই , ভাবছিলাম আপনার কাছে চাইবো কিন্তু এ মাসের টাকা তো আগেই নেয়া শেষ । উল্টো ১২০০ টাকা বেশি নিয়েছি তাই সাহস করে বলতে পারছি না ।

- চার বছর ধরে তোমার হাতের রান্না খেয়ে আসছি , তুমিও আমাদের ভালো করে চেনো তারপরও সাহস পেলে না কেন ?

- তাহলে আর কথা পেচিয়ে লাভ কি ? ৫০০ টাকা দেন আমি যাই তাড়াতাড়ি ।

- আচ্ছা ঠিক আছে নিয়ে যাও ।

- গেলাম আমি ?

- সাবধানে যেও খালা , আর বাসায় পৌঁছে একটা কল দিও ।

- কেন মামা ?

- হাহাহা কিছু না , এমনি ।

- আচ্ছা !

★★

খালার নাম পারুল , আমি যেদিন প্রথম এই মেসে উঠেছি সেদিন থেকে তাকে দেখে আসছি । বিগত চার বছর তার হাতের রান্না খেয়ে পার করে দিলাম । কিছুদিন পরে ডিপ্লোমা শেষ হয়ে যাবে , বিএসসি কিংবা চাকরি করতে চলে যাব চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা শহরে । স্মৃতি হয়ে পরে রবে মেসের এই অবিস্মরণীয় স্মৃতি গুলো একেকটা সোনালী পাতায় । ব্যস্ত শহরের মাঝে হারিয়ে যাবো আমি , শফিক আর রকির সঙ্গে দেখা হবে মাঝে মাঝে । চাকরি করতে গিয়ে ভুলে যাবো এই ছাত্রজীবনের কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত । এখন যেমন হঠাৎ করে মাঝে মাঝে গ্রামের স্কুল জীবনের স্মৃতি মনে পরে । তখন হয়তো স্কুল কলেজ সব স্মৃতি গুলো মাঝে মাঝে মনকে স্তব্ধ করে দেবে ।

খালার তিনটা সন্তান , প্রথমে বড় মেয়ে তুলি, দ্বিতীয় ছেলে পারভেজ , ছোট মেয়ে মিম । তুলি তার নানা বাড়িতে থাকে সেখানে থাকে আর পড়াশোনা করে । মিমের বয়স ৬ বছর আর পারভেজ একটা ওয়ার্কশপে কাজ করে ।

আজানের শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো আমার , চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি রুমের মধ্যে আলো জ্বলছে । জানালা খোলা ছিল বাহিরে গোধূলির আলোমাখা আকাশটা দেখতে পাচ্ছি । তারমানে এটা মাগরিবের আজান । ব্যাচেলর জীবনের মধ্যে রাতের আধারের ঘুমটা ঠিক মতো কেউ করতে পারে না । গতকাল রাতে তিনটা বাজে ঘুমিয়েছি আবার সকালে সাতটা বাজে উঠে কলেজ গেছি তাই বিকেলে সুষুপ্ত জড়িয়ে ধরেছে । বিছানায় উঠে কিছুক্ষণ বসে রইলাম , বিকেলের ঘুমে শরীর দুর্বল হয় বেশি । চোখ,নাক,গাল ফুলে যায় অনেক , নিজেকে চাকমা চাকমা লাগে তবে নাকটা লম্বাই থাকে ।

- রুমের মধ্যে শফিক প্রবেশ করে বললো , " সাজু ঘুম ভাঙ্গলো ? তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আয় খালার বাসায় যাবো , ফোন করেছিল । "

- বললাম , রকি কোথায় ?

- ও বাইরে বসে আছে , আমরা রেডি কিন্তু তুই ঘুমাচ্ছিস তাই ডাকিনী ।

- আচ্ছা বস তাহলে আমি আসছি, আসরের নামাজ তো পড়া হলনা , মাগরিবের নামাজ পড়ে তারপর বের হবো । 

★★

ফ্রেশ হয়ে তিন তারকা বেরিয়ে পরলাম , হাউজিং এর ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে রেললাইন ধরলাম । রেললাইনে গিয়ে হঠাৎ করে কিছুক্ষণ বসতে ইচ্ছে হলো তাই ওদের দুজনের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা রেললাইনে বসলাম ।

মোবাইল বের করে ভাবলাম এখন আবার একটা মেসেজ করা যাক । নিস্তব্ধ রেললাইনে বসে কবি কবি ভাব নিয়ে বাহহ চমৎকার লাগবে ।

লিখলাম  ;-

"" আকাশ ভর্তি অজস্র তাঁরা ,
মনটা হলো পাগল পারা ।
থাকতে যদি তুমি পাশে ,
হাতটা ধরে রইতে মিশে ।


Post a Comment

0 Comments

Comments