Dawnlod 👇👇👇
বিডিও দেখার জন্য Dawnlod বাটমে কিল্ক করুন ⬆️⬆️
আসলে মামা টাকা তো নেই , ভাবছিলাম আপনার কাছে চাইবো কিন্তু এ মাসের টাকা তো আগেই নেয়া শেষ । উল্টো ১২০০ টাকা বেশি নিয়েছি তাই সাহস করে বলতে পারছি না ।
- চার বছর ধরে তোমার হাতের রান্না খেয়ে আসছি , তুমিও আমাদের ভালো করে চেনো তারপরও সাহস পেলে না কেন ?
- তাহলে আর কথা পেচিয়ে লাভ কি ? ৫০০ টাকা দেন আমি যাই তাড়াতাড়ি ।
- আচ্ছা ঠিক আছে নিয়ে যাও ।
- গেলাম আমি ?
- সাবধানে যেও খালা , আর বাসায় পৌঁছে একটা কল দিও ।
- কেন মামা ?
- হাহাহা কিছু না , এমনি ।
- আচ্ছা !
★★
খালার নাম পারুল , আমি যেদিন প্রথম এই মেসে উঠেছি সেদিন থেকে তাকে দেখে আসছি । বিগত চার বছর তার হাতের রান্না খেয়ে পার করে দিলাম । কিছুদিন পরে ডিপ্লোমা শেষ হয়ে যাবে , বিএসসি কিংবা চাকরি করতে চলে যাব চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা শহরে । স্মৃতি হয়ে পরে রবে মেসের এই অবিস্মরণীয় স্মৃতি গুলো একেকটা সোনালী পাতায় । ব্যস্ত শহরের মাঝে হারিয়ে যাবো আমি , শফিক আর রকির সঙ্গে দেখা হবে মাঝে মাঝে । চাকরি করতে গিয়ে ভুলে যাবো এই ছাত্রজীবনের কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত । এখন যেমন হঠাৎ করে মাঝে মাঝে গ্রামের স্কুল জীবনের স্মৃতি মনে পরে । তখন হয়তো স্কুল কলেজ সব স্মৃতি গুলো মাঝে মাঝে মনকে স্তব্ধ করে দেবে ।
খালার তিনটা সন্তান , প্রথমে বড় মেয়ে তুলি, দ্বিতীয় ছেলে পারভেজ , ছোট মেয়ে মিম । তুলি তার নানা বাড়িতে থাকে সেখানে থাকে আর পড়াশোনা করে । মিমের বয়স ৬ বছর আর পারভেজ একটা ওয়ার্কশপে কাজ করে ।
আজানের শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো আমার , চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি রুমের মধ্যে আলো জ্বলছে । জানালা খোলা ছিল বাহিরে গোধূলির আলোমাখা আকাশটা দেখতে পাচ্ছি । তারমানে এটা মাগরিবের আজান । ব্যাচেলর জীবনের মধ্যে রাতের আধারের ঘুমটা ঠিক মতো কেউ করতে পারে না । গতকাল রাতে তিনটা বাজে ঘুমিয়েছি আবার সকালে সাতটা বাজে উঠে কলেজ গেছি তাই বিকেলে সুষুপ্ত জড়িয়ে ধরেছে । বিছানায় উঠে কিছুক্ষণ বসে রইলাম , বিকেলের ঘুমে শরীর দুর্বল হয় বেশি । চোখ,নাক,গাল ফুলে যায় অনেক , নিজেকে চাকমা চাকমা লাগে তবে নাকটা লম্বাই থাকে ।
- রুমের মধ্যে শফিক প্রবেশ করে বললো , " সাজু ঘুম ভাঙ্গলো ? তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আয় খালার বাসায় যাবো , ফোন করেছিল । "
- বললাম , রকি কোথায় ?
- ও বাইরে বসে আছে , আমরা রেডি কিন্তু তুই ঘুমাচ্ছিস তাই ডাকিনী ।
- আচ্ছা বস তাহলে আমি আসছি, আসরের নামাজ তো পড়া হলনা , মাগরিবের নামাজ পড়ে তারপর বের হবো ।
★★
ফ্রেশ হয়ে তিন তারকা বেরিয়ে পরলাম , হাউজিং এর ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে রেললাইন ধরলাম । রেললাইনে গিয়ে হঠাৎ করে কিছুক্ষণ বসতে ইচ্ছে হলো তাই ওদের দুজনের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা রেললাইনে বসলাম ।
মোবাইল বের করে ভাবলাম এখন আবার একটা মেসেজ করা যাক । নিস্তব্ধ রেললাইনে বসে কবি কবি ভাব নিয়ে বাহহ চমৎকার লাগবে ।
লিখলাম ;-
"" আকাশ ভর্তি অজস্র তাঁরা ,
মনটা হলো পাগল পারা ।
থাকতে যদি তুমি পাশে ,
হাতটা ধরে রইতে মিশে ।
চাঁদটা দেখে বলতে আমায় ,
থাকবে নাকি মনের পাড়ায় ?
বলতাম আমি জড়িয়ে ধরে ,
আজ যাবনা ঘরে ফিরে ।
তুমি হয়তো লজ্জা পেতে ,
রেললাইনের এই আধার রাতে ।
দুহাত দিয়ে ধরবো যে গাল ,
রাত পেরিয়ে হোকনা সকাল । ""
মেসেজ পাঠিয়ে দিয়ে মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছি , অনেকক্ষণ ধরে কোন মেসেজ আসছে না দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল । ভেবেছিলাম দুপুরের মতো হয়তো রিপ্লাই আসবে কিন্তু সেই আশা পূরণ হলো না । কপাল!
হঠাৎ করে মেসেজ টোন বেজে ওঠলো , তাকিয়ে দেখি সেও আমার মতো ছন্দে মিলিয়ে মেসেজ করেছে । মনে হয় লিখতে গিয়ে দেরি হয়েছে নাহলে মোবাইলের কাছে ছিল না ।
তার মেসেজ ছিল ;-
"" স্বপ্ন এমন দেখেছিলাম ,
হয়নি পূরণ কষ্ট পেলাম ।
বুকটা এখন পাথরের মত ,
কষ্ট জমা শত শত ।
কে আপনি ? বলেন ভাই !
মনটা ব্যাকুল তাই চিনতে চাই ।
দয়া করে পরিচয় দেন ,
নাহলে আপনি বিদায় নেন । ""
লে হালুয়া , আমাকে ভাই বানিয়ে দিল ? রাগে গজগজ করতে করতে আমি আবার সাথে সাথে লিখলাম ;-
""নামটা আমার বলবো না আজ ,
নই গো আমি কোন ধান্দাবাজ ।
পরিচয় দেবো কথা দিলাম ,
একটু নাহয় লুকিয়ে রইলাম ।

0 Comments